স্বাস্থ্য সেবা

করোনায় মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব, ফলাফল ও এর সমাধান

টীকা আবিষ্কৃত হওয়ায় মানুষের রোগ প্রতিরোধের শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা মোকাবেলায় মানব জাতি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে তবে মানসিক স্বাস্থের উপর বিরূপ প্রভাব।

অনলাইন ডেস্কঃ

পুরোবিশ্বে করোনা মহামারির ভয়াল থাবার সময়কাল চলছে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে। যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে করেছে দুর্বিসহ। মুখ থুবড়ে পড়েছে মানব জাতির জীবন। করোনা মহামারিতে বর্তমান বিশ্ব অনেক কঠিন বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে থাকবে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় করোনার ভয়াবহতা পূর্বের থেকে অনেকটা উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টীকা আবিস্কার হওয়ায় মানুষের রোগ প্রতিরোধের শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা মোকাবেলায় মানব জাতি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। সেই সাথে দৈনন্দিন জীবন কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তবে এর মধ্যেও মানসিক স্বাস্থের উপর যে বিরূপ প্রভাব রয়ে গেছে তা কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লেগে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশে করোনার প্রভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা আমাদের সাধারন জনগণকে ভাবিয়ে তোলে কিছু ঘটনা প্রকাশিত হবার ফলে।

সাতক্ষীরায় নিজ ঘরে আইসোলেশনে থাকা এক করোনা রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের পাশেই পাওয়া গেছে একটি চিঠি যাতে লেখা ছিল ” আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” এই ঘটনাটি জুলাই মাসের।

সাতক্ষীরায় নিজ ঘরে আইসোলেশনে থাকা এক করোনা রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের পাশেই পাওয়া গেছে চিরকুট। এতে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” পরিবার ও প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায় যে, চলমান পারিবারিক কলহের জের ধরে এমনিতেই অশান্তিতে থাকা ও পরে করোনা পসিটিভ আসায় তিনি মানসিক দিক দিয়ে ভেঙ্গে পড়েন। যা এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে ধারনা অনেকের। জানা যায়, লোকটির বয়স ছিল ৫৫।

আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে, মুগদা হাসপাতালে একজন মধ্য বয়সী লোক হাসপাতালের ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে আর তার কাছে একটি চিঠি পাওয়া যায় যেখানে লেখা ছিল তার পরিবার দেশের বাইরে থাকে, করোনা পসিটিভ আসায় তিনি এভাবে একাকীত্ব জীবন অতিবাহিত করতে চান না।

আরেকটি ঘটনা না বললেই নয়, সেটা হল, একজন জ্বলজ্যান্ত তরুণ আত্মহত্যা করেছে, মা এবং বড় ভাইয়ের মৃত্যর শোক সইতে না পেরে। ছেলেটির বয়স ২৬ বছর। পুলিশ বলছে, মানসিক বিষাদ থেকে এই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে যা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে, আরেকবার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল ​হওয়ার জন্য।

টীকা আবিষ্কার আমাদের শরীরকে নিরাপত্তা দিলেও মনের দিকটা কিন্তু বাদই থেকে গেল। যার দায় আমরা কোন মানুষই অস্বীকার করতে পারি না। চারপাশের বিভিন্ন ঘটনাগুলোই এর প্রকৃত উদাহরণ। তাই সমস্যা যেমন তৈরি হয় তেমনিভাবে সমাধানটাও আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। আর তার জন্য পরিবারের সহযোগীতার কোন বিকল্প হতেই পারে না। সেই সাথে দরকার কিছু কাছের বন্ধু।

বেশি বেশি একজন আরেকজনের সঙ্গ দেয়াটা একান্ত বাঞ্ছনীয় এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার জন্য। পরিবারের কেউ মারা গেলে বা করোনাতে আক্রান্ত হয়ে গেলে, আক্রান্ত ব্যক্তি ও শোক কাটিয়ে উঠার জন্য পরিবারের অন্য ব্যক্তিদের মানসিক দিক দিয়ে সাহায্য-সহযোগীতা করতে হবে। করোনাকে ভয় পেয়ে তাদের দূরে ঠেলে দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। যার প্রভাব একজন সুস্থ ব্যক্তির উপরও বর্তায়। তাই সামাজিক বন্ধন দৃঢ় এবং সকলকে বন্ধুভাবাপন্ন হবার কোন বিকল্প নেই।

সেই সাথে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে কুন্ঠাবোধ করা থেকে বিরত থাকাটা একান্ত জরুরী। নিজের শখের কাজগুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রেখে মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখাটা প্রয়োজন।

শখের কাজ হতে পারে, ছাঁদ বাগান, পেইন্টিং, বিকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাঁদে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করা ও সর্বোপরি একটা  শৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ততা হওয়া প্রয়োজন। আর এভাবে সৃজনশীল কাজকর্মের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারি।

সবশেষে বলা যায়, যার যার ধর্ম অনুযায়ী ধর্ম পালন করেও আমরা সবর ও ধৈর্যশীল জীবন-যাপন করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button