পড়ালেখা

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মনোযোগ বাড়ানোর কিছু পদ্ধতি ও কৌশল

পড়ালেখার দিকে সম্পুর্ন মনোযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য দরকার কিছুটা সময় দেয়া সেই সাথে দরকার ধৈর্য এবং আগ্রহ। করোনার এই মহামারির কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার যে বিরতি ঘটেছে তা কাটিয়ে উঠার লক্ষে অভিভাবকের সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন। বাড়তি মনোযোগ এখন বাঞ্ছনীয় ।

অনলাইন ডেস্ক :

পড়ালেখার দিকে সম্পুর্ন মনোযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য দরকার কিছুটা সময় দেয়া সেই সাথে দরকার ধৈর্য এবং আগ্রহ। করোনার এই মহামারির কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার যে বিরতি ঘটেছে তা কাটিয়ে উঠার লক্ষে অভিভাবকের সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন। বাড়তি মনোযোগ এখন বাঞ্ছনীয় । কারন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পাঠদানে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ার কারনে তাদের দৈনন্দিন পড়ালেখার রুটিনে যে অনিয়ম এবং উদাসীনতা তৈরি হয়েছে তা দূরীকরণে দরকার কিছু কৌশল ।

১) মানসিক প্রস্তুতিঃ
যেকোন কাজের জন্য দরকার মনকে তৈরি করা। মানসিক ভাবে প্রস্তুতি ছাড়া যেকোন কাজই হয়ে যায় কঠিন এবং দুঃসাধ্য । রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকে নিজে বলে প্রস্তুতু করে রাখা যে, আমি কাল থেকে সকালে উঠে নির্দিষ্ট কাজ শেষ করে পড়তে বসবো। আমি ঘুম থেকে নির্দিষ্ট সময়ে উঠব। সেজন্য এলার্ম দিয়ে ঘুমাতে যাওয়া দরকার।

২) নির্দিষ্ট জায়গাঃ
পড়ার জায়গা হতে হবে নির্দিষ্ট সেই সাথে হতে হবে গোছানো এবং মার্জিত। একটি নির্দিষ্ট রুম সবসময়ের জন্য ঠিক করা বাঞ্ছনীয় । কারণ পড়ার প্রতি মনোযোগ নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর। মনোযোগ তৈরির জন্য পড়ার পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্যপূর্ণ বিষয়।

৩) খোলামেলা এবং আলো-বাতাস পুর্ণ পরিবেশঃ
পড়ার ঘর হবে খোলামেলা এবং আলোবাতাস পুর্ণ যা পড়ার জন্য আগ্রহ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। মনে রাখবেন, আলোবাতাস পূর্ণ খোলামেলা ঘর মন ভাল রাখে। শিক্ষার্থীকে সতঃস্ফুর্তভাবে কাজে মনযোগী করে ।

৪) বুকশেল্ফ রাখাঃ
পড়ার ঘরে যদি একটি বুকশেল্ফ থাকে তাহলে ঘরে পড়তে বসার একটা মুড তৈরি করতে সহায়ক হবে সেইসাথে পড়ার মাঝে কিছুটা বিনোদনের সুযোগও তৈরি হবে যা পড়ালেখায় দীর্ঘক্ষন মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে ।

৫) স্বল্প আসবাবপত্রঃ
পড়ার ঘরে থাকতে হবে স্বল্প আসবাবপত্র যা ঘরটিকে করে তুলবে স্নিগ্ধতা এবং পরিষ্কার। অতিরিক্ত আসবাবপত্রে ঠাঁসা ঘরটাকে লাগবে ভাঁড় এবং বদ্ধ এবং এলোমেলো। যা পড়ালেখার পরিবেশ তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি করবে।
এই সব বিষয় পড়ালেখার পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য আলোচনা করা হয়েছে এবার আসি পড়ালেখার সময় এর সাথে সম্পর্কিত কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করা যাক।

১)প্রতিদিনের পাঠ পরিকল্পনাঃ
দৈনিক আমি কতক্ষণ পড়বো, কী পড়ব, কোন বিষয়সমূহ পড়বো, গুরুত্ব সাপেক্ষে বিষয়সমূহের প্রাধান্য দিয়ে র্যাং কিং করে লিস্ট বানিয়ে টার্গেট তৈরি করে পড়া দরকার।কারন দীর্ঘ দিন পড়ালেখায় বিরাম এবং অনিয়ম শিক্ষার্থীকে নানা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে যা পূরণের লক্ষ্যে নিয়ম করে ল্যাসন প্যান করে পড়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করতে পারে শিক্ষাবর্ষ পূরণ করার লক্ষ্য সময়ের সল্পতা হেতু।তাই আমাদের নিজেদেরকেই সেই সাথে বাবা-মা দের আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে বাচ্চাদের প্রতি।

২) সময়ানুবর্তিতাঃ
সময়ের দিকটা বিবেচনা করেই ল্যাসন প্ল্যান করতে হবে।রুটিনমাফিক প্রতিদিনের কাজ গুলোকে সাজিয়ে করা প্রয়োজন।সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায় ভাল ভবিষ্যতের দিকে। তাই সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

৩) বিনোদনের ব্যবস্থাঃ
পড়তে বসার আগে একটু খেলাধূলা, পছন্দের কোন কাজ করে মনটাকে প্রফুল্ল করে পড়তে বসলে পড়ার আগ্রহ বেড়ে গিয়ে পড়াটা হয় সুন্দর এবং তাড়াতাড়ি। তাই পড়তে বসার আগে বিনোদনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। হাসিখুশি মনে পড়তে বসলে পড়াটাও সহজ এবং আনন্দদায়ক হয়।

৪)পরিমিত ঘুমঃ
নিয়মিত ঘুম মাথা ঠান্ডা রাখে যা মানুষকে কাজে মনযোগী করতে সাহায্য করে।পরিমিত ঘুমের অভাবে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটে।

৫) লিখে লিখে পড়ার অভ্যাসঃ
মুখস্থের সাথে সম্পর্কিত বিষয় যেমনঃ বাংলা,সমাজ,বিজ্ঞান,ইতিহাস,ধর্ম ইত্যাদি পড়ার সময় লিখে লিখে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। লিখে পড়ার সুবিধা হল যে,সেই নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত বুলেট টপিক গুলো লেখার সময় খেয়াল করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় যা পরীক্ষার সময় ভুলে যাবার আশংকা কমে যায় সেই সাথে বানান ভুলের প্রবনতাটাও কম হয় এবং সেই পড়াটা রপ্ত হয় খুব অল্প সময়ে ।যা পরবর্তীতে পড়াটা একটা নোট আকারে তৈরী হয়ে যায় ।

সবশেষে একটা গুরুত্বপুর্ণ টিপস হল পড়ার শুরুর দিকে একটু কঠিন এবং অপেক্ষাকৃত সময় বেশি দেয়া লাগে এমন বিষয় আগে পড়া উচিত কারন তখন এনার্জি ধৈর্য বেশি থাকে সময়ের সাথে সাথে এনার্জি ধৈর্য কমতে থাকে তখন কঠিন বিষয় নিয়ে পড়তে কিছুটা অনীহা তৈরি হয়।

পড়ার শেষের দিকে অপেক্ষাকৃত সহজ এবং যে বিষয় আপনি পড়তে পছন্দ করেন সে বিষয় গুলো পড়বেন তাতে পড়ালেখার পুরো সময়টা অনেক উপভোগ্য হবে। অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পড়া উচিত নয়। নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়া চলমান থাকলে পরীক্ষার আগেই প্রস্তুতি অনেকটা সুন্দর ও গোছানো হয়ে যার আপনাআপনিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button