পড়ালেখা

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়ক কিছু পরামর্শ এবং কৌশল

করে।বিষয় মেধা, পড়ার অনুয়ায়ী উচ্চশিক্ষার পথটিও আলাদা হয়ে যায়। সঠিক প্রস্তুতি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।আমাদের দেশে এইচএসসি পরীক্ষার পরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু

অনলাইন ডেস্ক :

আমাদের দেশে এইচএসসি পরীক্ষার পরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। মেধা, পড়ার বিষয় অনুয়ায়ী উচ্চশিক্ষার পথটিও আলাদা হয়ে যায়। সঠিক প্রস্তুতি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হওয়া অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। কেননা এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনও সিলেবাস থাকে না। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র মুল্যায়ন যাচাই করে সিলেবাস সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাওয়া যায় সেই সাথে অভিজ্ঞ শিক্ষকের দিকনির্দেশনায় একজন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব সুন্দর ভাবে হয়। তার ওপর আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন সংকট। সুতরাং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মেধা দিয়েই আপনাকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আর এজন্য চাই সঠিক প্রস্তুতি। ধৈর্য এবং মনোযোগ সহকারে সঠিক দিকনির্দেশনার সাপেক্ষে একজন শিক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারে।

প্রথমে কিছু ব্যাপার সম্পর্কে জানতে হবে :

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরন কেমন, প্রশ্নের ধরন কেমন সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা নেয়াটা দরকার। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ‘ক’ ইউনিট সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য, ‘খ’ ইউনিট মানবিক এবং ‘গ’ ইউনিট ব্যবসায় শাখা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত।

প্রস্তুতির জন্য পড়ার বিষয় :
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু প্রায় সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় যে কোন বই পড়লে ভাল হবে কোন বই থেকে প্রশ্ন আসে এমন টাইপের প্রশ্ন। আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির পড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানসহ এইচএসসিতে পাঠ্য বিষয় যেমন পদার্থ, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান ভালোভাবে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে শুধু এইচএসসির সিলেবাস অনুসারেই নয়, বরং বইয়ের খুঁটিনাটি সব বিষয়ই পড়তে হবে।

প্রস্তুতি শুরু করার আগে বই নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কারন একজন শিক্ষার্থী যদি কয়েকদিন পর পর একেক বই থেকে পড়ে তাহলে সেটা তার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলবে । তাই আগে থেকেই বই নির্বাচন করে পড়া শুরু করাটা বাঞ্ছনীয় । এতে করে তুমি টার্গেট নিয়ে পড়াটা আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে।

আর পরীক্ষার আগে তখন খুব দ্রুত একজন শিক্ষার্থী লেসন প্ল্যান অনুযায়ী পড়াশোনাকে গুছাতে পারবে এবং টার্গেট অর্জন আরও সহজ হবে । আর একটা গুরুত্বপূর্ন কথা হল যে বই পড়া শুরু করবে সেটা শেষ পর্যন্ত পড়তে চেষ্টা করতে হবে । আরেকটা বিষয় সবসময় এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করবে সেটা হল অন্য শিক্ষার্থীকে অনুসরণ করে বারবার নিজের পড়ার বই বা পড়ার ধরন পাল্টানো যাবে না,অন্যথায় ফলাফল খুব একটা ভাল আসে না। দরকার হলে নির্দিষ্ট বইটা শেষ করে অন্য বই দেখে নেয়া যায় । সবশেষ কথা হল সর্বপ্রথম বোর্ড বইকে প্রাধান্য দিবে তারপর অন্য্ন্যা বইয়ের সাহায্য নিবে ।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি :
বাংলা : বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রতিবার আসে। সেক্ষেত্রে গদ্যের মূল বিষয়, গদ্য লেখক পরিচিতি, তাঁর সাহিত্যকর্ম, জীবনী ইত্যাদি বিষয় জানতে হবে। কবিতার ক্ষেত্রেও তাই। উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বা নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। ব্যাকরণ অংশের জন্য ভাষা, বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ, শব্দ, কারক, সমাস, সন্ধি, বিভক্তি, বচন, বাক্য সংকোচন, বাগধারা, উপসর্গ, অনুসর্গ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ভালো অনুশীলন দরকার।

ইংরেজি: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ইংরেজির ক্ষেত্রে গ্রামার অংশে অধিক জোর দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে Parts of speech, Article, Tense, Voice, Narration, Correction, Right form of verbs ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক, বিশেষ করে যাদের লেখা এইচএসসির সিলেবাসে রয়েছে তাদের জীবনও সাহিত্যকর্ম, লেখার বিষয়, উদ্ধৃতি ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ও মনে রাখতে হবে।

রসায়ন : উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর রসায়ন মূল পাঠ্য বইয়ের মধ্যে থেকে পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা, পর্যায় সারণী, রাসায়নিক গণনা, জারণ-বিজারণ, রাসায়নিক বন্ধন, রাসায়নিক বিক্রিয়া, প্রতীক, সংকেত, যোজনী, গাঠনিক সংকেত, আণবিক সংকেত, রাদারফোর্ড, বোরের পরমাণু মডেল বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

একটি বিষয় সবসময়ই মনে রাখতে হবে, এইচএসসির সিলেবাস তো বটেই, ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে বইয়ের সব অধ্যায়ই ভালোভাবে পড়তে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে বইয়ের কোনও অধ্যায় এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

পদার্থ : পদার্থবিজ্ঞানে প্রস্তুতির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের প্রথম পত্র থেকে গতির সূত্র, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ, গতিবিদ্যা, ভেক্টর ও স্কেলার রাশি, বেগ, ত্বরণ, বল ও বলের প্রকারভেদ, মাত্রা ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে একক ইত্যাদি পড়তে হবে।পদার্থ দ্বিতীয় পত্র থেকে স্থিরবিদুৎ,চৌম্বক পদার্থ, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ইলেক্ট্রন, প্রোটন, পরমাণুসহ ইলেক্ট্রনের প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, সূত্রাবলি, ঘটনা ও কারণ, প্রভাব, পার্থক্য, গাণিতিক সমস্যার সমাধান জানতে হবে। পদার্থ বিষয়ে কিছু প্রশ্ন গাণিতিক হয়। সে কারণে গাণিতিক সমস্যার সমাধানগুলো ভালোভাবে করতে হবে। এর সঙ্গে গাণিতিক সমাধান দ্রুত করতে পারার বিষয়টিও আয়ত্ত করতে হবে।

জীববিজ্ঞান : জীববিজ্ঞানের দুটি অধ্যায়। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞান। উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকে পাঠ্যবইয়ের সব অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, আবিষ্কারকের নাম, প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা, উদাহরণ, পার্থক্য, উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস, মূল, কা-, পাতা, গোত্র পরিচিতি, সালোক সংশ্লেষণ, শ্বসন, প্রস্বেদন, টিস্যু, টিস্যুতন্ত্র বিষয়গুলো পড়তে হবে।প্রাণীবিজ্ঞান অংশের ম্যালেরিয়ার জীবাণু, হাইড্রা, দেহপ্রাচীর, কলা, কোষ, প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম, পরিপাকতন্ত্র, রক্ত ও রক্ত সংবহনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, পেশিতন্ত্র, প্রাণীর প্রজননতন্ত্র ইত্যাদি বিষয় পড়তে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, প্রতিটি বিষয়ের যতটা সম্ভব খুঁটিনাটি বিষয় যেন আপনার আয়ত্তে থাকে।

হিসাববিজ্ঞান : ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হিসাববিজ্ঞান। হিসাববিজ্ঞানের প্রশ্ন সাধারণত মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর হয়। তাই এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে হিসাববিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার ওপর ভালো দখল দরকার হবে। মুনাফা ও মূলধন জাতীয় আয়-ব্যয়, সম্পত্তি, দায়, মালিকানা, হিসাববিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি, ঋণ, অবচয়, সঞ্চয় নীতি, অংশিদারী ক্রয়-বিক্রয় মূল্যনীতি, শেয়ার ইস্যু, অনুপাত প্রভৃতি বিষয়ের ওপর ধারণা থাকতে হবে। হিসাববিজ্ঞানে অঙ্ক থাকবে। সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। এজন্যে বাসায় অনুশীলনের বিকল্প নেই।

ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ : ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ থেকেও ভর্তি পরীক্ষায় কিছু প্রশ্ন থাকে। এ বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে ব্যবসায়ের প্রকৃতি ও প্রকারভেদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি ও আওতা, ব্যাংকব্যবস্থা, মুদ্রাব্যবস্থা, বাণিজ্যিক ব্যাংক নীতিমালা ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান : সাধারণ জ্ঞানের দুটি অংশ। এখানে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর প্রশ্ন থাকবে। এ অংশে ভালো করতে হলে অবশ্যই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চলতি ঘটনাবলির ওপর নজর রাখতে হবে। এজন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পড়া এবং বিবিসি, টেলিভিশন, রেডিওর সংবাদ শুনতে হবে। এর বাইরেও বাংলাদেশ অংশের জন্য দেশের ভূ-প্রকৃতি, আয়তন, শিক্ষা, অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি, উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ও স্থপতির নাম, প্রশাসনিক কাঠামো, চলচ্চিত্র, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, খেলাধূলা, আবহাওয়া, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয় জানতে হবে।

আর্ন্তজাতিক অংশের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আর্ন্তজাতিক বিষয়ের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা, স্থাপনা,নোবেল পুরস্কার, বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা, বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার যেমন অস্কার, বিশ্বের উচ্চতম, দীর্ঘতম, ক্ষুদ্রতম,বন্দর, ব্যয়বহুল শহর ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হবে। সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সবসময় আপডেট থাকতে হবে। সমকালীন ঘটনাপ্রবাহের দিকে নিবিড় নজর রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button