ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার তালিকায় বিতর্কিত ছাত্রদল নেতার নাম, উঠছে প্রশ্ন Logo বিজয়নগরে জমির ফসল নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে হামদু মিয়া হত্যা, প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতার  Logo ৫০ বছর শুধু প্রেসক্লাবের উৎসব নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর উৎসব, এমপি শ্যামল  Logo ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ Logo ডিজাইন, পারফরম্যান্স ও স্থায়িত্বে জোর দিয়ে নতুন ৫জি স্মার্টফোন আনছে ইনফিনিক্স Logo স্মার্টফোন ডিসপ্লেতে নতুন যুগ: ০ মিমি বর্ডারলেস কনসেপ্ট আনল টেকনো Logo ভারতের পুনেতে জরুরি অবতরণের সময় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ Logo শিক্ষার্থীদের জন্য দারাজে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০এক্স Logo দীর্ঘস্থায়ী ৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং শক্তিশালী গরিলা গ্লাস ৭আই সুরক্ষা নিয়ে শাওমি উন্মোচন করল নতুন রেডমি ১৭

ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পঠিত

ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে জলকামানও ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে রাঁচিতে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সমাধান এবং পরীক্ষার সংস্কারের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

শিক্ষার্থীরা ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে রাঁচিতে পৌঁছান। পরে তারা বিধানসভা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়। জলকামানের পানির প্রবল চাপের মধ্যেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রতিবাদী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে ও নাচতে দেখা যায়। এ দৃশ্য ভারতের পাটনায় অনুষ্ঠিত নিট আন্দোলনের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড স্থাপন করে পুলিশ। দূরপাল্লার বাসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। আন্দোলনের প্রভাবের কারণে শহরের বেশির ভাগ স্কুলও বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবনের বাইরেও বিজেপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেছিলেন। তবে তার এমন বক্তব্যের পরও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে ১৬ দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্ত করা।

অনশনে থাকা শিক্ষার্থী নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো ও রবীন্দ্র পাসোয়ান অভিযোগ করেছেন, ১৩টি বিতর্কিত পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিআইডির তলবের পর জেপিএসসির তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদত্যাগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা সিবিআই তদন্তসহ তাদের বাকি দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :

ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে জলকামানও ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে রাঁচিতে জড়ো হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সমাধান এবং পরীক্ষার সংস্কারের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

শিক্ষার্থীরা ট্রেন, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে রাঁচিতে পৌঁছান। পরে তারা বিধানসভা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়। জলকামানের পানির প্রবল চাপের মধ্যেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রতিবাদী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে ও নাচতে দেখা যায়। এ দৃশ্য ভারতের পাটনায় অনুষ্ঠিত নিট আন্দোলনের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

বিক্ষোভ ঠেকাতে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড স্থাপন করে পুলিশ। দূরপাল্লার বাসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। আন্দোলনের প্রভাবের কারণে শহরের বেশির ভাগ স্কুলও বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসভবনের বাইরেও বিজেপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। মুখ্যমন্ত্রী আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেছিলেন। তবে তার এমন বক্তব্যের পরও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে ১৬ দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের মাধ্যমে তদন্ত করা।

অনশনে থাকা শিক্ষার্থী নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো ও রবীন্দ্র পাসোয়ান অভিযোগ করেছেন, ১৩টি বিতর্কিত পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিআইডির তলবের পর জেপিএসসির তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদত্যাগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা সিবিআই তদন্তসহ তাদের বাকি দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি