ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo  কসবায় ২৬৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট Logo ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার আটক Logo আজই কি বিয়ে রোনালদো-জর্জিনার? মাদেইরায় জোর গুঞ্জন Logo রাসেল ক্রোর সঙ্গে প্রথমবার জুটি বাঁধছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া Logo জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করতে চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি সড়ক বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গণপূর্ত বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  শুভেচ্ছা।

জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করতে চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পঠিত

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করতে সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার।

প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় জোর

চিকিৎসাসেবায় সরকারের মূল নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জনগণকে শুরুতেই সচেতন করা গেলে অনেক অসুস্থতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এ লক্ষ্যেই আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কর্মী মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেবেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে টমাস এডিসনের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসকের ভূমিকা শুধু ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রোগীকে শরীরের যত্ন, খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে এ চিন্তার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। ফলে ব্যক্তির রাজনৈতিক সচেতনতা বা মতাদর্শ থাকা অস্বাভাবিক নয়।

তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন কারও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

চিকিৎসকদের সাত প্রস্তাব

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা এবং অবসরের বয়স ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা চালু, বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং রাজধানীর বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এসব দাবি অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে শিশু হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রস্তাবগুলোও যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

‘ভঙ্গুর রাষ্ট্র’ পেয়েছিল সরকার

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল অবস্থায় ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র ও দুর্বল অর্থনীতি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভাজন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সংকটও ছিল।

এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় আগের ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ দুটি খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে স্বনির্ভর করার কাজ চলছে।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১০১ শয্যার

স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। তার মতে, শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না; চিকিৎসকদেরও মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সেবা দিতে হবে।

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যেও কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা কিংবা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখা গেলে তা সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।

ট্যাগস :

জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করতে চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করতে সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার।

প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় জোর

চিকিৎসাসেবায় সরকারের মূল নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জনগণকে শুরুতেই সচেতন করা গেলে অনেক অসুস্থতা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এ লক্ষ্যেই আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কর্মী মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেবেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে টমাস এডিসনের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসকের ভূমিকা শুধু ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রোগীকে শরীরের যত্ন, খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির সঙ্গে এ চিন্তার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। ফলে ব্যক্তির রাজনৈতিক সচেতনতা বা মতাদর্শ থাকা অস্বাভাবিক নয়।

তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন কারও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

চিকিৎসকদের সাত প্রস্তাব

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা এবং অবসরের বয়স ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা চালু, বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং রাজধানীর বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এসব দাবি অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে শিশু হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রস্তাবগুলোও যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

‘ভঙ্গুর রাষ্ট্র’ পেয়েছিল সরকার

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল অবস্থায় ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র ও দুর্বল অর্থনীতি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভাজন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সংকটও ছিল।

এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থায় আগের ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ দুটি খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে স্বনির্ভর করার কাজ চলছে।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১০১ শয্যার

স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। তার মতে, শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না; চিকিৎসকদেরও মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সেবা দিতে হবে।

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যেও কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা কিংবা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখা গেলে তা সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।