৮ মে- বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস

৮ মে- বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস

স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি:
একটি বংশগত অ্যানিমিয়া রোগকে থ্যালাসেমিয়া বলা হয়। এই রোগের রোগীরা অল্প বয়স থেকেই রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুই প্রকার। যথাক্রমে আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।

এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সোমবার (৮ মে) দেশে পালিত হয় ‘বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৩’।
আলফা থ্যালাসেমিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলফা তীব্র হয় না। অনেক সময় লক্ষণগুলোও বোঝা যায় না, রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করে।

তবে বিটা থ্যালাসেমিয়ার কারণে রক্তশূন্যতা, ক্লান্তি, অলসতা, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়। দেশে এ ধরনের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

ইন্টারন্যাশনাল থ্যালাসেমিয়া ফেডারেশন এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- ‘‘বি অ্যাওয়ার, শেয়ার কেয়ার থ্যালাসেমিয়া: স্ট্রেংদেনিং এডুকেশন টু ব্রিজ দ্য থেলাসেমিয়া কেয়ার গ্যাপ।’ যার অর্থ ‘থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানুন, যত্ন নিন, সেবার ব্যবধান পূরণ করতে জ্ঞান অর্জন করুন।’

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত তৈরি হয় না, যার ফলে অন্যের রক্ত নিয়েই জীবনযাপন করতে হয়। যদি বাবা-মা উভয়েই ত্রুটিপূর্ণ জিন বহন করে, তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ থাকে।

সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ এবং বাহক হওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে। বেশিরভাগ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের পেছনে বাবা-মা থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার কারণ রয়েছে। তাই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। যাতে অভিভাবকরা বাহক হলেও ৭৫ শতাংশ রোগী ও বাহক কমানো সম্ভব।

দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এবং বিশেষায়িত করা জটিল হতে পারে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। থ্যালাসেমিয়ার বিস্তার রোধে বাহক এবং আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করা উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে সন্তান ধারণের পর প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত একটি দুরারোগ্য রোগ। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সোসাইটি এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশে এ রোগের জিন বাহকের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। বাহকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা দেশের সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গতিপূর্ণ বিবাহের ক্ষেত্রে, দম্পতির সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই বিয়ের আগে এই রোগের জিন বাহক কিনা তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *