চুয়াডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গা'র কাটা খালি মাঠে কলা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গা’র কাটা খালি মাঠে কলা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

জেলা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা গ্রামের কাটা খালি (গালা)র মাঠে কলা ব্যবসায়ী আছের (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের মৃত শাহাদত শেখের ছেলে আছের একজন কলা ব্যবসায়ী। সে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে কলা চাষীদের কাছ থেকে কলা ক্রয় করে। ১৩ আগস্ট রোববার ও অন্যন্য দিনের ন্যায় বেলা ১১ টার দিকে সে কলা কিনতে বাঘাডাঙ্গায় যায়। এসময় সে কয়েক কাঁধি কলা কেটে সমিরের বাড়ির সামনে তার কলার গাড়িতে রেখেও দেয়। পরে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত মন্ডলের ছেলে পরিতোষের দুটি কলার কাঁচি কেনে সে। তারপর সে পরিতোষের কলা বাগানে কলা কাটতে যায়। ধারনা করা হচ্ছে আছেরের মৃত্যু স্ট্রোক জনিত কারনে হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিমল জোসেফ ইমরান জানান, আমরা ১২ টার পরে মাঠে কাজ করছিলাম। এসময় একটু পর পরিতোষের জমির দিকে যেতে গিয়ে দেখি একটা লাশ পড়ে আছে আমরা ভয়ে আর কাছে যায়নি। পরিতোষের মা জানান আমাকে আছের বাড়ি এসে তিনশত টাকাও দিয়েও গেছে তারপর সে কলাবাগান গেছে কলা কাটতে। এখন দেখছি তার মরদেহ পড়ে আছে আমাদের কলা সহ চিচিঙ্গার জমিতে। চিচিঙ্গার জমিটিতে ৩ টি কলার কাঁধি ছিলো আর সে সেখান থেকে দুটি কলার কাঁধি কিনে ছিলো বলে জানা গেছে। আছেরের মরাদেহ মাঠে পড়ে আছে শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার স্ত্রী, সন্তান, বড়ভাই, ভাবীসহ গ্রামের লোকজন। ঘটনার খবর পেলে ছুটে আসেন কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

নিহতের স্ত্রী ও বড় ভাই জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন দিনমজুর, একজন কলা ব্যবসায়ী। তার সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই। তাঁর শ্বাসকস্টের অসুখ ছিলেন কিছুটা। এসময় তারা বলেন আমাদের ধারনা সে গরমে স্ট্রোক করে মারা গেছে। কারণ তাঁর সঙ্গে কারো কোন শ্রতুতা নেই।

এদিকে উল্লেখিত ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জাকিয়া সুলতানা ও দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর কবির।

এ বিষয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ইমরান জানান, আছেরের লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই তার মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *