চাঁপাইনবাবগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ককটেল হামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ককটেল হামলা

জেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে একের পর এক ককটেল হামলা। হামলাকারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় বারবার এ ঘটনা ঘটছে। এতে শহরজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে ২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন স্থানে ককটেল হামলা হয়।

রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পাশে অফিসার্স ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে পরপর দুটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এর ১০ মিনিটের মাথায় শান্তিমোড় এলাকার বঙ্গবন্ধু ক্লাবের পাশে আরও ২টি ককটেল বিস্ফোরণ হলে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ জেলা কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বত্তরা। এতে শহরের রাস্তা জনশূন্য হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের পাশেই জেলা প্রশাসকের বাসভবন হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি শহরে বিজিবি ও র‌্যাব টহল দেয়।

ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ হলেও পুলিশ হামলাকারী ৯ জনকে আটক করতে পারলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জেলা নির্বাচন অফিস লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনায় যুবদলের আনোয়ার হোসেন তুফান, আলি হোসেন, সাহাবুদ্দিন, ফিরোজ, রুমনসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। শান্তিমোড়ে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের দাঁড়ানো গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির শান্তসহ আরও ৩ জনকে আটকের দাবি করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল জানান, বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপিয়ে এ ধরনের অপরাধ ধামাচাপা দিতে চাইছে পুলিশ। এতে করে প্রকৃত হামলাকারীরা আরও উৎসাহিত হবে। প্রতিটি ঘটনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হওয়ায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।

এদিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন ও পুলিশ সুপার মো. ছাইদুল হাসান।

জেলা প্রশাসক বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই তারা একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিএনপি ও যুবদলের ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে গত ২০, ২৬, ২৮ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *